দত্তাবাদের স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনের মামলায় চাপ বাড়ছে রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মনের উপর। গ্রেফতারি পরোয়ানার আর্জি জানাল বিধাননগর কমিশনারেট।
দত্তাবাদের (Dattabad) স্বর্ণ ব্যবসায়ী অপহরণ ও খুনের মামলায় রাজগঞ্জের (Rajganj) বিডিও (BDO) প্রশান্ত বর্মনকে (Prashanta Burman) গ্রেফতারের পথে এক ধাপ এগোল বিধাননগর কমিশনারেট (Bidhannagar Commissionerate)। খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে নাম উঠে আসা এই প্রশাসনিক আধিকারিকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার আবেদন করল বিধাননগর কমিশনারেট। ইতিমধ্যেই তাঁর ঘনিষ্ঠ একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু মূল অভিযুক্ত অধরা।
গত ২৮ অক্টোবর দত্তাবাদ এলাকা থেকে স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যাকে (Swapan Kamilya) অপহরণ করা হয়। অভিযোগ, সল্টলেক (Salt Lake) থেকে তাঁকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল নিউটাউন (New Town)-এর একটি ফ্ল্যাটে। সেখানেই খুন করা হয়। পরে নিউটাউনের যাত্রাগাছি সংলগ্ন বাগজোলা খালপাড়ের ঝোপ থেকে উদ্ধার হয় দেহ। পরিবার দেহ শনাক্ত করে। তাঁদের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করে খুন করা হয়েছে স্বপনকে।
এই খুনের ঘটনায় তদন্তে নেমে পুলিশ একাধিক তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মনের নাম সামনে আনে। তদন্তকারীদের দাবি, অপহরণ থেকে খুন— গোটা ঘটনার নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তাঁর। যদিও খুনের ঘটনায় জড়িত পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়, প্রশান্ত বর্মন দীর্ঘদিন ধরেই পুলিশের নাগালের বাইরে।
ঘটনার পর বারাসত আদালতে (Barasat Court) আগাম জামিনের আবেদন করেন প্রশান্ত। ২৬ নভেম্বর সেই আবেদন মঞ্জুর করে নিম্ন আদালত। পরে বিধাননগর মহকুমা আদালতে হাজিরা দিয়ে আগাম জামিন কার্যকরও করেন তিনি। এই নিয়েই শুরু হয় বিতর্ক। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ওঠে প্রশ্ন।
এরপর রাজ্য সরকার নিম্ন আদালতের ওই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে (Kolkata High Court)। শুনানিতে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ (Justice Tirthankar Ghosh) কড়া মন্তব্য করেন নিম্ন আদালতের ভূমিকা নিয়ে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, খুনের মতো গুরুতর অপরাধে আগাম জামিন দেওয়ার আগে যে বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা দরকার, সেগুলির কোনওটাই বিবেচনা করা হয়নি। গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও প্রমাণ উপেক্ষা করেই অভিযুক্তকে আগাম জামিন দেওয়া হয়েছিল বলে মত আদালতের।
গত সোমবার হাইকোর্ট প্রশান্ত বর্মনের আগাম জামিন খারিজ করে দেয়। একইসঙ্গে নির্দেশ দেওয়া হয়, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তাঁকে বিধাননগর আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তিনি আত্মসমর্পণ করেননি। আইনজীবীদের একাংশের মতে, গ্রেফতার এড়াতেই শেষ মুহূর্তে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) দ্বারস্থ হন প্রশান্ত।
বুধবার দেশের শীর্ষ আদালতে রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা দফতরের (State Intelligence Department) বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেনতিনি। যদিও এখনও সেই মামলার শুনানির দিন ঠিক হয়নি। অথচ হাইকোর্টের নির্দেশ ছিল, বৃহস্পতিবারের মধ্যেই আত্মসমর্পণ করতে হবে।
এই পরিস্থিতিতে বিধাননগর কমিশনারেট প্রশান্ত বর্মনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির জন্য আদালতে আবেদন করেছে। পুলিশের বক্তব্য, অভিযুক্ত পলাতক থাকায় তদন্তে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।
নিহত স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যা আদতে পশ্চিম মেদিনীপুরের (West Midnapore) নীলদা পোস্ট অফিস এলাকার দিলামাটিয়ার বাসিন্দা। দত্তাবাদে তাঁর সোনার গয়নার দোকান ছিল। ২৮ অক্টোবর দোকান থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর বিধাননগর দক্ষিণ থানায় (Bidhannagar South PS) ডায়েরি করা হয়। কয়েকদিন পর উদ্ধার হয় দেহ।
সব মিলিয়ে ‘বিতর্কিত’ বিডিও প্রশান্ত বর্মনের আইনি জট আরও জটিল হল। এখন দেখার, সুপ্রিম কোর্টে তাঁর আবেদনের কী হয়।
Partha Goswami
26/12/2025







