কিন্তু সেই সময়সীমা পেরিয়েও আত্মসমর্পণ করেননি প্রশান্ত বর্মন। উল্টে বুধবার বিকেল পৌনে ছ’টা নাগাদ সুপ্রিম কোর্টে স্পেশাল লিভ পিটিশন (এসএলপি) দায়ের করেন তিনি।

দত্তাবাদের স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিল বিধাননগর মহকুমা আদালত (Arrest warrant issued against ‘controversial’ BDO Prasanta in gold trader murder)। পুলিশের আবেদনের ভিত্তিতেই এদিন ওই নির্দেশ জারি হয়। ফলে অভিযুক্ত আধিকারিককে গ্রেফতারে পুলিশের আর কোনও আইনি বাধা রইল না।
স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যা খুনের ঘটনায় প্রথম থেকেই বিডিও প্রশান্ত বর্মনের নাম উঠে আসে তদন্তের নথিতে। মৃতের পরিবারের তরফে দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তে একাধিক তথ্য উঠে আসে, যা অভিযুক্ত বিডিও-র বিরুদ্ধে সন্দেহ আরও জোরদার করে। ঘটনায় বিডিও-র ঘনিষ্ঠ কয়েকজনকে গ্রেফতারও করা হয়। কিন্তু প্রশান্ত বর্মনের খোঁজ পেতে কার্যত হিমশিম খেতে হয় তদন্তকারীদের।
এর মধ্যেই বারাসত আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করেন প্রশান্ত। নিম্ন আদালত জামিন মঞ্জুর করে। পরে বিধাননগর মহকুমা আদালতে হাজিরা দিয়ে তা কার্যকরও করেন তিনি। বিষয়টি ঘিরে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে প্রশাসনিক মহলে।
এরপরই নিম্ন আদালতের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় রাজ্য। শুনানিতে নিম্ন আদালতের রায় নিয়ে কড়া মন্তব্য করে হাইকোর্ট। পাশাপাশি বিডিওর আগাম জামিন খারিজ করে নির্দেশ দেয়—৭২ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে অভিযুক্ত আধিকারিককে।
কিন্তু সেই সময়সীমা পেরিয়েও আত্মসমর্পণ করেননি প্রশান্ত বর্মন। উল্টে বুধবার বিকেল পৌনে ছ’টা নাগাদ সুপ্রিম কোর্টে স্পেশাল লিভ পিটিশন (এসএলপি) দায়ের করেন তিনি। ফলে আত্মসমর্পণ না করার বিষয়টি আদালতের নজরে আনতেই এদিন আবার আদালতের দ্বারস্থ হয় পুলিশ।
আদালতের নির্দেশে এবার গ্রেফতারির পথে হাঁটতে চলেছে পুলিশ। রাজ্যের বিতর্কিত ওই বিডিওর সন্ধান এখন প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।
Partha Goswami
26/12/2025







