সমুদ্রের গভীরে ভারতের ‘ব্রহ্মাস্ত্র’! K-4 মিসাইলের যুগলবন্দীতে এখন আরও শক্তিশালী দেশ

SHARE:

সমুদ্রের অতলে লুকিয়ে ভারতের সবচেয়ে ভয়ংকর শক্তি।

সমুদ্রের গভীরে ভারতের ‘ব্রহ্মাস্ত্র’! K-4 মিসাইলের যুগলবন্দীতে এখন আরও শক্তিশালী দেশ

২০০৩ সালে গৃহীত ভারতের পারমাণবিক নীতিতে একটি স্পষ্ট কথা বলা হয়েছিল, ‘ভারত আগে কখনও কোনও দেশের ওপর পারমাণবিক হামলা চালাবে না (No First Use)। তবে যদি কোনও দেশ ভারতের ওপর আক্রমণ করে, তবে তার পাল্টা জবাব হবে এতটাই ‘ভয়ানক’ ও ‘অসহনীয়’ যে হামলাকারী দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে।’ এই হুমকিকে বাস্তবে রূপ দিতেই ভারত এখন সমুদ্রের অতল গভীরে নিজের শক্তি বাড়িয়ে চলেছে।

সম্প্রতি ভারত অত্যন্ত গোপনে K-4 সাবমেরিন-লঞ্চড ব্যালিস্টিক মিসাইল (SLBM)-এর সফল পরীক্ষা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। যদিও সরকার প্রথাগতভাবে এই নিয়ে মুখ খুলছে না, তবে এটি ভারতের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির এক বড় ইঙ্গিত। ৩,৫০০ কিলোমিটার পাল্লার এই মিসাইলটি সাবমেরিন থেকে দ্বিতীয়বারের মতো পরীক্ষা করা হল। এর আগে ২০২৪ সালের শেষের দিকে প্রথম পরীক্ষাটি হয়েছিল। বর্তমানে ভারতের হাতে দুটি পারমাণবিক সাবমেরিন (INS Arihant ও INS Arighaat) সচল রয়েছে এবং আরও দুটি পরীক্ষার মুখে।

পারমাণবিক হামলার পাল্টা জবাব দেওয়ার জন্য সাবমেরিন কেন সেরা জায়গা? ল্যান্ড লঞ্চার বা বোমারু বিমান শত্রুর রাডারে ধরা পড়ার ভয় থাকলেও, পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন (SSBN) মাসের পর মাস সমুদ্রের গভীরে লুকিয়ে থাকতে পারে। এর অবস্থান খুঁজে বের করা প্রায় অসম্ভব। যদি শত্রুর প্রথম হামলায় ভারতের সমস্ত স্থল ও আকাশপথের ঘাঁটি ধ্বংসও হয়ে যায়, সমুদ্রের নিচে লুকিয়ে থাকা এই সাবমেরিন থেকে ভারত পাল্টা পারমাণবিক হামলা চালিয়ে শত্রুকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারবে। একেই বিশেষজ্ঞরা বলেন ‘অ্যাসিওর্ড সেকেন্ড স্ট্রাইক ক্যাপাবিলিটি’।

বর্তমানে ভারতের হাতে দুটি সচল সাবমেরিন আছে: ১. INS Arihant (শত্রু দমনকারী) ২. INS Arighaat (শত্রু সংহারকারী)

তৃতীয় সাবমেরিন INS Aridhaman বর্তমানে পরীক্ষার স্তরে আছে এবং আগামী বছরের শুরুতে এটি নৌবাহিনীতে যুক্ত হতে পারে। ভারতের লক্ষ্য মোট চারটি এমন সাবমেরিন তৈরি করা, যাতে সবসময় অন্তত একটি সাবমেরিন সমুদ্রের গভীরে পাহারায় মোতায়েন থাকে।

মিসাইল ছাড়া সাবমেরিন হলো গুলিহীন বন্দুকের মতো। ভারতের প্রথম K-সিরিজের মিসাইল (K-15)-এর পাল্লা ছিল মাত্র ৭৫০ কিমি, যা শত্রুর লক্ষ্যবস্তু আঘাত করার জন্য যথেষ্ট ছিল না। কিন্তু নতুন K-4 মিসাইল এই চিত্র বদলে দিয়েছে। ৩,৫০০ কিমি পাল্লার এই মিসাইল বঙ্গোপসাগরের নিরাপদ আশ্রয়ে থেকেই পাকিস্তান ও চিনের বিশাল অংশে আঘাত হানতে সক্ষম। এর ফলে ভারতীয় সাবমেরিনকে আর শত্রুর কাছাকাছি যাওয়ার ঝুঁকি নিতে হবে না।

প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা (DRDO) এখন আরও শক্তিশালী K-5 এবং K-6 মিসাইল তৈরির কাজ করছে, যার পাল্লা হবে ৫,০০০ কিলোমিটারের বেশি। এই বড় মিসাইলগুলো বহন করার জন্য ভারত বর্তমানে S5 কোডনামের নতুন ক্লাসের সাবমেরিন তৈরি করছে, যা আরিহান্ত ক্লাসের চেয়ে আকারে দ্বিগুণ হবে। এর ফলে ভারত আমেরিকা ও রাশিয়ার মতো শক্তিশালী ‘বুমার’ সাবমেরিন পরিচালনাকারী দেশের তালিকায় নাম লেখাবে।

Partha Goswami

27/12/2025

 

Vnn Times Today
Author: Vnn Times Today