পাহাড়ের রাজনৈতিক ইতিহাস টেনে এনে কংগ্রেস, বাম ও তৃণমূলকে একযোগে নিশানা করেন শাহ। তাঁর মতে, গত কয়েক দশকে এই দলগুলি দেশভক্ত গোর্খা সম্প্রদায়ের ওপর শুধু অন্যায়ই করে গিয়েছে।
রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) প্রথম দফার ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে উত্তরবঙ্গের পাহাড়ে ঝড় তুললেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। মঙ্গলবার কার্শিয়াঙের হাইভোল্টেজ জনসভা থেকে একদিকে যেমন গোর্খা (Gorkha) সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য নির্দিষ্ট দিনক্ষণ ঘোষণা করলেন, তেমনই ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (West Bengal SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন তিনি। শাহের সাফ দাবি, আগামী ৬ মে-র মধ্যেই পাহাড়ের দীর্ঘদিনের সমস্যার এমন সমাধান বিজেপি বের করবে, যাতে প্রত্যেক গোর্খা ভাইয়ের মুখে হাসি ফোটে।
এদিন কার্শিয়াঙের সভামঞ্চ থেকে ভোটার তালিকা নিয়ে শাসক দলকে তীব্র আক্রমণ করেন অমিত শাহ। তিনি অভিযোগ করেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালেক্টর ষড়যন্ত্র করে এসআইআর প্রক্রিয়ায় বহু গোর্খার নাম তালিকা থেকে কেটে দিয়েছেন। কিন্তু তাতে কোনও লাভ হবে না, আসন আমরাই জিতব। ভোট মিটলেই বেছে বেছে প্রত্যেক গোর্খাকে আবার ভোটার তালিকায় ফেরাবে বিজেপি।” পাহাড়বাসীকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, “বিজেপির সরকার গঠন হওয়ার পর ৬ মে-র মধ্যে আমি আপনাদের কথা দিয়ে যাচ্ছি – এত বছর ধরে ঝুলে থাকা গোর্খা সমস্যার সমাধান করে যাব। আর সেই সমাধান হবে গোর্খাদের মনের মতো করেই।”
পাহাড়ের রাজনৈতিক ইতিহাস টেনে এনে কংগ্রেস, বাম ও তৃণমূলকে একযোগে নিশানা করেন শাহ। তাঁর মতে, গত কয়েক দশকে এই দলগুলি দেশভক্ত গোর্খা সম্প্রদায়ের ওপর শুধু অন্যায়ই করে গিয়েছে। তিনি বলেন, “গোর্খাদের এক মহান ইতিহাস রয়েছে। মমতা সেই ইতিহাসকে ছিন্নবিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করেছেন। আগে সিপিএম ও কংগ্রেসও একই কাজ করেছে। কিন্তু এখন সেই অন্যায়ের শেষ হওয়ার সময় এসেছে। বিজেপি ছাড়া আর কেউ গোর্খাদের সমস্যার প্রকৃত সমাধান করতে পারবে না।”
পাহাড় ও সমতলের রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে শাহ এদিন এক বিশেষ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “গত তিনটি নির্বাচন ধরে দার্জিলিং দু’হাত উজাড় করে পদ্মফুলে ভোট দিচ্ছে। কিন্তু আগে পশ্চিমবঙ্গের বাকি অংশ থেকে তেমন সমর্থন আসত না। এবার ছবিটা বদলে গিয়েছে। পাহাড়ের পাশাপাশি এবার গোটা পশ্চিমবঙ্গ স্থির করে নিয়েছে যে দিদিকে ক্ষমতাচ্যুত করতে হবে। গোটা রাজ্যে পরিবর্তনের প্রবল হাওয়া বইছে।”
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই ‘৬ মে’ ডেডলাইন পাহাড়ের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল। যেখানে জিজেএম বা অন্যান্য আঞ্চলিক দলগুলি গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে অনড়, সেখানে দাঁড়িয়ে শাহের এই ‘স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান’-এর আশ্বাস ভোটবাক্সে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার। তবে প্রথম দফার ভোটের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে অমিত শাহ বুঝিয়ে দিলেন, উত্তরবঙ্গের তরাই-ডুয়ার্স থেকে পাহাড় – এক ইঞ্চি জমিও তৃণমূলকে ছাড়তে নারাজ বিজেপি। নির্বাচন পরবর্তী গোর্খা ভাগ্য এখন শাহের এই ‘কথার’ ওপর ভরসা করে কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে পাহাড়বাসী।
Partha Goswami
21/04/2026







