তদন্তের নামে ‘বেআইনি হস্তক্ষেপ’ করার অভিযোগ উঠছে আদালতে। ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল গত ৮ জানুয়ারি। কয়লা পাচার মামলার তদন্তে নেমে আই-প্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে তল্লাশি চালায় ইডি।
ভোটমুখী (West Bengal Assembly Election 2026) বাংলায় একদিকে যখন প্রচারের পারদ চড়ছে, অন্যদিকে তখন নয়াদিল্লিতে সুপ্রিম কোর্টে আই-প্যাক (I-PAC) মামলা ঘিরে তৈরি হলো টানটান উত্তেজনা। ইডি বনাম রাজ্য সরকারের এই আইনি লড়াইয়ে বুধবার বারংবার উঠে এল সংবিধান, রাষ্ট্রের ক্ষমতা এবং তদন্তকারী সংস্থার এক্তিয়ারের প্রশ্ন।
তদন্তের নামে ‘বেআইনি হস্তক্ষেপ’ করার অভিযোগ উঠছে আদালতে। ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল গত ৮ জানুয়ারি। কয়লা পাচার মামলার তদন্তে নেমে আই-প্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে তল্লাশি চালায় ইডি। কেন্দ্রীয় এজেন্সির অভিযোগ ছিল, খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১০০-র বেশি পুলিশকর্মী নিয়ে সেই তল্লাশিতে বাধা দিয়েছেন এবং ল্যাপটপ ও ফোন সহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ সরিয়ে ফেলেছেন। এই ‘হস্তক্ষেপের’ বিরুদ্ধেই শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল ইডি।
সিঙ্ঘভি-সিব্বলের পাল্টা চাল শীর্ষ আদালতে। এদিন রাজ্যের প্রাক্তন ডিজির হয়ে সওয়াল করতে গিয়ে প্রবীণ আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি সরাসরি ইডির অস্তিত্ব নিয়েই প্রশ্ন তুলে দেন। তাঁর কথায়, “ইডি একটি রাষ্ট্রীয় শক্তিশালী সংস্থা। ইডি বলতে পারে না যে তাদের রাষ্ট্রের সুরক্ষা চাই। ইডি অফিসারের নিজস্ব কোনও আলাদা অস্তিত্ব বা পরিচয় নেই, তিনি শুধু আইনের অধীনে দায়িত্ব পালনকারী একজন ব্যক্তি মাত্র।” তিনি আরও দাবি করেন, তদন্ত করার ক্ষমতা ইডির থাকলেও, তা তাদের ‘মৌলিক অধিকার’ হতে পারে না। ফলে অনুচ্ছেদ ১৪, ২১ বা ২২ লঙ্ঘনের প্রশ্নই ওঠে না। প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বলও প্রশ্ন তোলেন, একটি সরকারি সংস্থা হয়েও ইডি কীভাবে ব্যক্তিগত মৌলিক অধিকার দাবি করতে পারে?
কেন্দ্রের পাল্টা তোপ আদালতে। রাজ্যের এই সমস্ত যুক্তিকে অবশ্য ধোপে টিকতে দিতে নারাজ কেন্দ্র। অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা পাল্টা আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “ঘটনাটি তাদের পক্ষে যাচ্ছে না বলেই তারা এখন মামলা খারিজ করার জন্য অতীতের নানা কারণ দেখাচ্ছে। সেই দিনের আসল ঘটনাটি নিয়ে তাঁরা কিছু বলছেন না কেন?”
অন্যদিকে, আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী ১৯৪৮ সালের সংবিধান সভার বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে এই মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সব মিলিয়ে বুধবার সুপ্রিম কোর্টের এজলাসে আইনি লড়াই পৌঁছল চরম পর্যায়ে।
রাজ্যের যুক্তি, তদন্ত করা ইডির ‘ক্ষমতা’, কিন্তু কোনও ‘মৌলিক অধিকার’ নয়। অন্যদিকে, ইডির অভিযোগ, খোদ মুখ্যমন্ত্রী তদন্তে বাধা দিয়েছেন, যা নজিরবিহীন। আদালতের এখনও পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ, এর আগে আদালত প্রশ্ন তুলেছিল, যদি মুখ্যমন্ত্রী নিজেই তদন্তে ঢুকে পড়েন, তবে ইডি কোথায় যাবে? লাঞ্চের পরে ফের এই মামলার শুনানি শুরু হবে বলে জানা গিয়েছে।
আগামীকালই রাজ্যে প্রথম দফার ভোট। তার আগে দিল্লিতে এই আইনি সংঘাত যে রাজনৈতিক লড়াইয়ে বাড়তি অক্সিজেন জোগাবে, তা বলাই বাহুল্য।
Partha Goswami
22/04/2026







