প্রথম দফায় তো কলকাতায় ভোট নেই। যেখানে প্রথম দফায় ভোট নেই, সেখানেও মদের দোকান বন্ধ করা হল কেন? জবাবে মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক বলেন, ‘আমিও তো এটা শুনে অবাক হচ্ছি। আমি এক্সাইজ কমিশনারকে জিজ্ঞেস করব কেন তিনি এই নির্দেশ জারি করেছেন?’
বাংলায় প্রথম দফার ভোটের (West Bengal Election 2026) তিন দিন আগে থেকেই গোটা রাজ্যে মদের দোকান বন্ধ হয়ে গেছে। বড় কথা হল, প্রথম দফায় কলকাতায় বা সংলগ্ন জেলা ও শহরতলিতে ভোট নেই। সেখানে ভোট দ্বিতীয় দফায় ২৯ এপ্রিল। কিন্তু তার প্রায় দশ দিন আগে সোমবার সন্ধে থেকেই কলকাতাতেও মদের দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে মঙ্গলবার যারপরনাই বিষ্ময় প্রকাশ করলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল (Manoj Agarwal)।
মঙ্গলবার সন্ধেয় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের (ECI) নিয়ম হল, যেখানে ভোট রয়েছে সেখানে ৪৮ ঘণ্টা আগে মদের দোকান বন্ধ হয়ে যাবে। প্রথম দফায় ভোট গ্রহণ হবে ১৫২টি আসনে। সেখানে আজ থেকে মদের দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা।
তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, প্রথম দফায় তো কলকাতায় ভোট নেই। যেখানে প্রথম দফায় ভোট নেই, সেখানেও মদের দোকান বন্ধ করা হল কেন? জবাবে মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক বলেন, ‘আমিও তো এটা শুনে অবাক হচ্ছি। আমি এক্সাইজ কমিশনারকে জিজ্ঞেস করব কেন তিনি এই নির্দেশ জারি করেছেন?’
ভোটের সময়ে মদের দোকান বন্ধ রাখা বা ‘ড্রাই ডে’-র ব্যবস্থা করা নতুন নয়। কিন্তু এবার ভোটের আগে সোমবার থেকেই যেভাবে মদের দোকান বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়, তা নিয়ে হইচই পড়ে যায়। প্রথম দফায় ২৩ এপ্রিল ভোট গ্রহণ হবে মুর্শিদাবাদ সহ গোটা উত্তরবঙ্গ, দুই মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, বীরভূম ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায়। তার ৪৮ ঘণ্টা আগে মঙ্গলবার সকাল থেকে মদের দোকান বন্ধ হওয়ার কথা।
কিন্তু দেখা যায়, যেখানে প্রথম দফায় ভোট নেই, সোমবার থেকে সেই সব জেলাতেও মদের দোকানে তালা লাগিয়ে গালা দিয়ে সিল করে দেওয়া হচ্ছে। শুধু জানা যায় যে, কলকাতায় অনলাইনে মদ পাওয়া যাবে।
মঙ্গলবার সন্ধেয় এ নিয়েই বিষ্ময় প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। সিইও-র কথায়, এটা শুনে তো আমিও অবাক হচ্ছি। মনোজ সাংবাদিকদের কাছেই জানতে পারেন যে সোমবার বিকেল থেকে কলকাতায় মদ বিক্রি বন্ধ হয়েছে। তিনি জানান, এক্সাইজ কমিশনারকে বলতে হবে তিনি কার নির্দেশে এটা করেছেন।
কমিশনের একাংশের মতে, এটা ইচ্ছাকৃত করা হয়েছে এবং এর দায় কমিশনের উপর চাপানো হয়েছে। যাতে সাধারণ মানুষের একাংশের কমিশনের বিরুদ্ধে অসন্তোষ তৈরি হয় এবং শাসক দল এরও সুবিধা পায়।
Partha Goswami
22/04/2026







