হুমায়ুন কবীরের গাড়ি ভাঙচুর! বাঁশ-লাঠি হাতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সামনেই ধুন্ধুমার, রণক্ষেত্র নওদা

SHARE:

মুর্শিদাবাদের নওদায় আক্রান্ত হুমায়ুন কবীর। তৃণমূল ও আমজনতা উন্নয়ন পার্টির সংঘর্ষে রণক্ষেত্র এলাকা। গাড়ি ভাঙচুর, ধস্তাধস্তি ও পুলিশের লাঠিচার্জে পরিস্থিতি উত্তপ্ত।

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণের শুরু থেকেই অশান্তির আগুন মুর্শিদাবাদের নওদায়। বুধবার রাত থেকেই থমথমে ছিল এলাকা, কিন্তু বৃহস্পতিবার সকাল হতেই তা রণক্ষেত্রের রূপ নিল। আমজনতা উন্নয়ন পার্টির (AJUP) প্রার্থী হুমায়ুন কবীরকে লক্ষ্য করে হামলা, তাঁর গাড়ি ভাঙচুর এবং তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে চরম হাতাহাতি— সব মিলিয়ে নওদার পরিস্থিতি কার্যত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

হামলার সূত্রপাত ও কনভয় ভাঙচুর

ঘটনার সূত্রপাত হয় নওদার শিবনগর এলাকা থেকে। অভিযোগ, বৃহস্পতিবার সকালে হুমায়ুন কবীর যখন ওই এলাকা দিয়ে বেরোনোর চেষ্টা করছিলেন, তখনই তাঁর পথ আটকায় একদল উত্তেজিত জনতা। তৃণমূলের ঝাণ্ডা হাতে একদল কর্মী-সমর্থক তাঁর গাড়ির সামনে বাঁশ ফেলে গতিরোধ করে বলে অভিযোগ।

মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। হুমায়ুন কবীরের কনভয়ে থাকা একটি গাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। শুধু তাই নয়, পোলিং এজেন্টের গাড়ি লক্ষ্য করেও বৃষ্টির মতো ইট ছোড়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

মুখোমুখি সংঘর্ষ ও ধস্তাধস্তি

বাঁশ ও লাঠি নিয়ে দুই পক্ষের এই লড়াইয়ে মাঝপথে পড়ে যান পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে হুমায়ুন কবীরের হাতাহাতি এবং চরম ধস্তাধস্তি শুরু হয়। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করলেও বিক্ষোভকারীদের রণং দেহি মেজাজের সামনে বারবার বাধা পায় নিরাপত্তা বাহিনী।

খোদ কেন্দ্রীয় বাহিনীর আধিকারিকদের সঙ্গেও বিক্ষোভকারীদের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও বচসা চলতে থাকে। এক সময় চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হলে নওদার রাজপথেই বসে পড়ে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন হুমায়ুন কবীর।

পুলিশের ভূমিকা ও উদ্ধার

পরিস্থিতি আয়ত্তের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ বাহিনী লাঠিচার্জ শুরু করে। লাঠির ঘায়ে ভিড় ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালানো হয়। দীর্ঘক্ষণের টানটান উত্তেজনার পর কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা দিয়ে হুমায়ুন কবীরকে ওই বিক্ষোভস্থল থেকে উদ্ধার করে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

নওদার এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও বড়সড় প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, যার প্রভাব ভোটের ওপরেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা।

রাজনৈতিক চাপানউতর

সব মিলিয়ে এই দ্বৈরথে নওদা এখন কার্যত বারুদের স্তূপ। তৃণমূলের পক্ষ থেকে অবশ্য সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের দাবি, সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়েছেন হুমায়ুন। অন্যদিকে, আমজনতা উন্নয়ন পার্টির দাবি, পরাজয় নিশ্চিত জেনে পুলিশ ও প্রশাসনের সামনেই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বাধা দিতেই এই পরিকল্পিত হামলা চালিয়েছে শাসকদল।

প্রথম দফার এই ভোটে নওদার এই ঘটনা গোটা মুর্শিদাবাদ জেলার নির্বাচনি মেজাজকে আরও বেশি তপ্ত করে তুলল। এলাকা এখনও থমথমে, মোতায়েন রয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। কমিশনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতির ওপর কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে।

Partha Goswami

23/04/2026

Vnn Times Today
Author: Vnn Times Today

सबसे ज्यादा पड़ गई