শুক্রবারের নমাজ শেষ হতেই সিরিয়ার হোমস শহরের একটি মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণ। এই ঘটনায় অন্তত ৬ জনের মৃত্যু, জখম হয়েছেন ২১ জনেরও বেশি।

শুক্রবারের নমাজ শেষ হতে না হতেই রক্তে ভিজল সিরিয়ার (Syria) হোমস (Homs) শহর। ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল একটি মসজিদ। সরকারি হিসেব অনুযায়ী, এই ঘটনায় অন্তত ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ২১ জনের বেশি আহত। বিস্ফোরণের তীব্রতায় মুহূর্তে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়।
সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের (Interior Ministry) বিবৃতি অনুযায়ী, আল-কাদরি স্ট্রিট (Al-Khadri Street)-এর ওয়াদি আল-দাহাব (Wadi al-Dahab) এলাকার আলি বিন আবি তালিব মসজিদে (Ali Bin Abi Talib Mosque) শুক্রবারের নমাজ চলাকালীন এই বিস্ফোরণ ঘটে। প্রশাসনের দাবি, এটি সন্ত্রাসবাদী বিস্ফোরণ (terrorist explosion)। ঘটনাস্থলটি মূলত আলাওয়াইট (Alawite) অধ্যুষিত এলাকা বলেই জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বিস্ফোরণের পরপরই উদ্ধারকাজ শুরু হয়। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠান স্থানীয়রা। বহু মানুষের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা যাচ্ছে। তবে বিস্ফোরণের কারণ ও প্রকৃতি (cause and nature of blast) এখনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানা (SANA) ঘটনাটি নিশ্চিত করেছে। সানায় প্রকাশিত ছবিতে দেখা গিয়েছে, মসজিদের ভিতরের দেওয়ালে বড় গর্ত, চারদিকে ছড়িয়ে রয়েছে ধোঁয়া। কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছে মসজিদের একাংশ। নমাজের কার্পেট, ধর্মীয় বই ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে মেঝেতে-সব মিলিয়ে এক ভয়াবহ দৃশ্য।
উল্লেখযোগ্যভাবে, হোমস শহর মূলত সুন্নি মুসলিম (Sunni Muslim) অধ্যুষিত হলেও এখানকার একাধিক এলাকায় আলাওয়াইটদের বসতি রয়েছে। সিরিয়ার প্রাক্তন শাসক বাসার আল-আসাদ (Bashar al-Assad) আলাওয়াইট সম্প্রদায়ের। এদের ধর্মীয় শিকড় শিয়া ইসলাম (Shiite Islam)-এর সঙ্গে যুক্ত।
২০২৪ সালে আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই হোমসে সংখ্যালঘু আলাওয়াইট সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে অপহরণ ও খুনের অভিযোগ সামনে আসতে শুরু করে। সিরিয়ান অবজারভেটরি (Observatory) এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে একের পর এক হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেছে।
শুধু হোমস নয়, চলতি বছরের মার্চ মাসে সিরিয়ার উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলিতেও আলাওয়াইট সাধারণ মানুষের উপর ভয়াবহ হামলার অভিযোগ ওঠে। সেই সময় প্রশাসনের তরফে দাবি করা হয়েছিল, আসাদ-পন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী নিরাপত্তা বাহিনীর উপর হামলা চালানোয় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
এই প্রেক্ষাপটে হোমসের মসজিদ বিস্ফোরণ নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গৃহযুদ্ধের ক্ষত এখনও পুরোপুরি শুকোয়নি সিরিয়ায়। ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক বিভাজনের আগুন যে এখনও জ্বলছে, শুক্রবারের এই বিস্ফোরণ তারই ভয়ঙ্কর প্রমাণ।
তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরণের পেছনে কারা জড়িত, কী উদ্দেশ্যে এই হামলা-সেসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আন্তর্জাতিক মহল।
Partha Goswami
26/12/2025







