অধীরকে দেখে ফ্লাইং কিস বাইরনের, সাগরদিঘিতে বিশ্বাস অবিশ্বাসের ঢেউ, তল পাচ্ছে না কেউ

SHARE:

অধীরকে দেখে কখনও মুখ লুকোচ্ছেন বাইরন, কখনও ফ্লাইং কিস ছুড়ছেন, কখনও বা অকাতরে বলছেন, ‘আমি বিশ্বাসঘাতক। অধীর চৌধুরী আমার গুরু। আমি তাঁকে ঠকিয়েছি।’

গীতিকার গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার লিখেছিলেন, ‘যদি জগাই মাধাই না থাকতো তবে নিমাইকে কে কি চিনতো লোকে?’ ব্যাপারটা একেবারে না মিললেও মুর্শিদাবাদে বাইরন বিশ্বাসকে (Byron Biswas) নিয়েও এরকমই বলা যায়। অধীর চৌধুরী (Adhir Ranjan Chowdhury) না থাকলে তাঁকে কেই বা চিনতো!

ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) মধ্যে সেই বাইরনের কাণ্ডকারখানা দেখে সাগরদিঘিতেও যেন হঠাৎই উথালপাথাল ঢেউ উঠেছে। অধীরকে দেখে কখনও মুখ লুকোচ্ছেন বাইরন, কখনও ফ্লাইং কিস ছুড়ছেন, কখনও বা অকাতরে বলছেন, ‘আমি বিশ্বাসঘাতক। অধীর চৌধুরী আমার গুরু। আমি তাঁকে ঠকিয়েছি।’

বাইরন যদি নিজেকে এভাবেই এখনও অধীর চৌধুরীর শিষ্য বলে মানেন, তাহলে সাগরদিঘিতে এবার অধীরের দুই শিষ্যর লড়াই। কংগ্রেস প্রার্থী মনোজ চক্রবর্তীও অধীর চৌধুরীর অত্যন্ত আস্থাভাজন। দুর্দিনেও ‘দাদাকে’ ছেড়ে যাননি।

বস্তুত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জমানায় মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘি মোটামুটি নিস্তরঙ্গই ছিল। স্থির জল। ২০২৩ সালে তৃণমূল বিধায়ক সুব্রত সাহার মৃত্যুর পর সেখানে উপনির্বাচন হয়। সেই ভোটে বামেদের সমর্থন নিয়ে বাইরন বিশ্বাসকে কংগ্রেসের প্রার্থী করেন অধীর। এমনিতে উপনির্বাচনে শাসক দল হারে না। আর বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জমানায় উপনির্বাচনগুলি হয়ে উঠেছে রেকর্ড ভাঙার ভোট। যেমন, ২০১৬ সালে বাম কংগ্রেস জোটের প্রার্থীকে হারিয়ে সজল পাঁজা জিতেছিলেন মাত্র ৭০০ ভোটে। কিন্তু সজলের অপমৃত্যুর পর সেই বছরই যখন তাঁর ছেলে সৈকত পাঁজা তৃণমূলের টিকিটে মন্তেশ্বের উপ নির্বাচনে প্রার্থী হন, জিতে যান ১ লক্ষ ২৭ হাজার ভোটে।

আবার ২০২১ সালে দিনহাটা বিধানসভায় উদয়ন গুহকে নিশীথ প্রামানিক হারিয়েছিলেন ৫৭ ভোটে। কিন্তু নিশীথ ইস্তফা দেওয়ার পর সে বছরই যখন দিনহাটায় উপনির্বাচন হয়, উদয়ন জিতে যান ১ লক্ষ ৬৪ হাজার ভোটে।

এই ধারাকেই ভেঙে দিয়ে সাগরদিঘির পাড়ে বসে মহাকাব্য লিখেছিলেন বাইরন। উপনির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থীকে হারিয়ে দিয়েছিলেন ২৩ হাজার ভোটে। তার পর অধীর চৌধুরীকে টাটা করে কিছুদিনের মধ্যেই যোগ দেন তৃণমূলে।

সেই বাইরন বিশ্বাসকেই সাগরদিঘিতে ফের প্রার্থী করেছে তৃণমূল। এহেন বাইরন সাগরদিঘিতে প্রচারে বেরিয়ে হঠাৎ বলেন, “আমি স্বার্থপর। বিশ্বাসঘাতকতা করেছি। কংগ্রেস থেকে টিকিট পেয়েছিলাম। আমার হাতেখড়ি অধীর চৌধুরীর হাত ধরেই। উনি আমার গুরুদেব। মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত আমি ওঁকে স্মরণ করব।”

বাইরনের এই কথার তল পেতে সাগরিদিঘিতে তোলপাড় পড়ে গেছে। কেউ কেউ ভাবছেন, এটা কি কংগ্রেসের ভোট টানার কৌশল, নাকি সমূহ হার বুঝতে পেরে আত্মসমর্পণ।

বাইরনের দাবি, “এটা কোনও কৌশল নয়, উনি (অধীর) আমার কাছে ভগবানের পরেই। দাদাকে শ্রদ্ধা করি, বড় ভাই হিসেবে উনি কিছু বললে আমার আপত্তি নেই।”

বাইরনের এই ভোলবদল নিয়ে অধীর চৌধুরীকে প্রশ্ন করা হলে, তিনি কিছুক্ষণ হো হো করে হাসেন। তার পর বলেন, “সেদিন সাগরদিঘিতে আমাকে আসতে দেখে রাস্তায় গাড়ি রেখে লুকিয়ে পড়েছিল। তাতে রাস্তায় যানজট তৈরি হয়। পুলিশ এসে ওকে ডাকে। তার পর ও বেরিয়ে এসে আমার দিকে ফ্লাইং কিস ছুড়তে ছুড়তে গাড়িতে উঠে পড়ে।”

পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে গত তিরিশ বছরে অধীর চৌধুরীর মতো দীর্ঘকায় রাজনৈতিক নেতা উঠে আসেননি। শুধু বাইরন কেন, কান্দিতে অপূর্ব সরকার, রঘুনাথগঞ্জে আখরুজ্জামান, সুতিতে ইমানি বিশ্বাস, সাংসদ আবু তাহের, হুমায়ুন কবীর, মনোজ চক্রবর্তী এঁদের সবাইকে নেতা বানিয়েছেন অধীর চৌধুরীই। অধীরই তাঁদের বিধানসভা ভোটে জিতিয়েছিলেন। পরে মনোজ ছাড়া বাকিরা সব একে একে তৃণমূলে যোগ দেন।

Partha Goswami

18/04/2026

Vnn Times Today
Author: Vnn Times Today