‘মা ডাক্তার বানিয়েছিলেন, সেই মেয়েকে কেড়ে নিয়েছে তৃণমূলের জঙ্গলরাজ’, পানিহাটিতে মোদী

SHARE:

তাঁর দাবি, গতকালের ভোটদানের হার প্রমাণ করে দিয়েছে যে বাংলায় বিজেপির ক্ষমতায় আসা এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা। এতদিন ধরে তৃণমূলের জমানায় রাজ্যে গণতন্ত্রের যে টুঁটি চিপে ধরা হয়েছিল, এবার সেই অন্ধকার অধ্যায়ের অবসান হতে চলেছে বলে তিনি দাবি করেন।

বাংলায় পরিবর্তনের যে চোরাস্রোত এতদিন দেখা যাচ্ছিল, প্রথম দফার ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) পর তা এখন স্পষ্ট হয়েছে। বাংলায় যে বদল ঘটছে তাতে সিলমোহর পড়ে গেছে। উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটিতে নির্বাচনী জনসভা থেকে এই ভাষাতেই তৃণমূল কংগ্রেসকে কড়া আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)

তাঁর দাবি, গতকালের ভোটদানের হার প্রমাণ করে দিয়েছে যে বাংলায় বিজেপির ক্ষমতায় আসা এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা। এতদিন ধরে তৃণমূলের জমানায় রাজ্যে গণতন্ত্রের যে টুঁটি চিপে ধরা হয়েছিল, এবার সেই অন্ধকার অধ্যায়ের অবসান হতে চলেছে বলে তিনি দাবি করেন।

এদিন পানিহাটির জনসভায় দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন। তিনি বলেন, “আপনারা আপনাদের মূল্যবান ভোট দিয়ে আমাদের আশীর্বাদ করুন। আমি কথা দিচ্ছি, আমরা সবাই মিলে আপনাদের দীর্ঘদিনের কষ্ট দূর করব। তৃণমূলের গুন্ডারাজ, সিন্ডিকেট সংস্কৃতি, সাধারণ মানুষের মনে ঢুকিয়ে দেওয়া ভয়, নারীদের ওপর সীমাহীন অত্যাচার, আকাশছোঁয়া বেকারত্ব এবং অনুপ্রবেশকারীদের হাত থেকে আমরা বাংলাকে মুক্তি দেব। হারানো গৌরব ফিরে পাবে এই পুণ্যভূমি।”

এদিনের বক্তৃতায় মোদীর গলায় শোনা যায় আরজি কর হাসপাতালের নারকীয় ঘটনার প্রসঙ্গ। ওই ঘটনার কথা উল্লেখ করে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন প্রধানমন্ত্রী। তিনি সরাসরি শাসক দলকে কাঠগড়ায় তুলে বলেন, “একজন মা অনেক স্বপ্ন নিয়ে নিজের মেয়েকে ডাক্তার বানিয়েছিলেন। কিন্তু তৃণমূলের জঙ্গলরাজ সেই মেয়েকে তাঁর থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে। আর কী দুর্ভাগ্যজনক বিষয় দেখুন, এখন বলা হচ্ছে মহিলারা সুরক্ষিত থাকতে চাইলে যেন সন্ধের পর বাইরে না বেরোন! এই কুৎসিত পরামর্শ আমি দিচ্ছি না, এটা তৃণমূলের নেতাদের বক্তব্য।”

নির্যাতিতার মায়ের যন্ত্রণার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মোদী জানান, সেই শোকাতুর মাকেই বিজেপি এবার সম্মানের সঙ্গে প্রার্থী করেছে, যাতে তিনি বিধানসভা দাঁড়িয়ে প্রতিবাদের কণ্ঠস্বর হতে পারেন।

তৃণমূল কংগ্রেসকে আগাগোড়া ‘নারীবিরোধী দল’ হিসেবে দেগে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলার নারীশক্তি আজ জেগে উঠেছে। তাঁরা নতুন ইতিহাস লিখতে চলেছেন। মহিলাদের ওপর এই সরকার যে অবর্ণনীয় অত্যাচার চালিয়েছে, আগামী ৪ জুনের পর সেই সব অন্যায়ের কড়ায়-গণ্ডায় হিসাব বুঝে নেওয়া হবে।” প্রথম দফার ভোটে পরাজয়ের আশঙ্কায় তৃণমূল নেতৃত্ব দিশেহারা হয়ে পড়েছেন দাবি করে মোদীর মন্তব্য, “গতকালের জনসমর্থন দেখে তৃণমূল নেতারা হতভম্ব। তাই তাঁরা এখন গুন্ডাদের উস্কানি দিচ্ছেন অশান্তি করার জন্য। আসলে প্রদীপ নেভার আগে যেমন দপ করে জ্বলে ওঠে, তৃণমূলের অবস্থাও এখন ঠিক সেরকমই।”

বক্তব্যের শেষে বাঙালির আবেগ ও দেশপ্রেমকে ছুঁতে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর অমর বাণী স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “নেতাজি বলেছিলেন, তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব। আজ এই পানিহাটির মাটি থেকে আমি বলছি, আপনারা আমাদের ভোটরূপী আশীর্বাদ দিন, আমি আপনাদের এই তৃণমূলের মহাজঙ্গলরাজ থেকে চিরতরে মুক্তি দেওয়ার কথা দিচ্ছি।”

প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর সভাস্থলে উপস্থিত কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উন্মাদনা লক্ষ্য করা যায়। রাজনৈতিক মহলের মতে, আরজি কর ইস্যুকে সামনে রেখে মোদী এদিন সরাসরি রাজ্যের নারী সমাজ ও মধ্যবিত্ত আবেগকে স্পর্শ করতে চেয়েছেন।

Partha Goswami

24/04/2026

Vnn Times Today
Author: Vnn Times Today

सबसे ज्यादा पड़ गई