‘আমায় ব্যবহার করেছে, তৃণমূলে যাওয়া ভুল ছিল’, কংগ্রেস-যোগের পর ক্ষমা চাইলেন বিদায়ী বিধায়ক

SHARE:

নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি জানান, প্রায় ৫৭ হাজার ভোটে জিতেও তিনি বাদুড়িয়ার মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারেননি। এর কারণ হিসেবে তিনি তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ ও দল পরিচালনার ধরনকেই দায়ী করেছেন। তাঁর দাবি, শাসক দলে থাকাকালীন তিনি কাজ করার স্বাধীনতা পাননি।

বৃহস্পতিবার রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) প্রথম দফার ভোটগ্রহণ ছিল। রেকর্ড শতাংশ ভোট পড়া নিয়ে ইতিমধ্যে হইচই রাজ্য-রাজনীতিতে। তবে এরই মধ্যে অন্যরকম ঘটনার সাক্ষী থাকল উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়া (Baduria)। খাতায়-কলমে এখনও শাসক শিবিরের বিধায়ক পদে থাকলেও, টিকিট না পেয়ে ইতিমধ্যেই হাত শিবিরে নাম লিখিয়েছেন কাজী আব্দুর রহিম (Kazi Abdur Rahim)। আর কংগ্রেসের হয়ে প্রচার ময়দানে নেমেই বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার এক জনসভা থেকে হাতজোড় করে মানুষের কাছে ক্ষমা চাইলেন বিদায়ী এই বিধায়ক। তাঁর সাফ কথা, তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়াটাই ছিল তাঁর জীবনের সবথেকে বড় ভুল এবং সেই ভুলের জন্য তিনি আজ অনুতপ্ত।

রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়ে আব্দুর রহিম বলেন, “আমাকে দয়া করে কেউ ভুল বুঝবেন না। আমি সত্যিই ভুল করেছিলাম। সেদিন তৃণমূল কংগ্রেস আমাকে কেবল ব্যবহার করার জন্যই দলে নিয়ে গিয়েছিল, সেটা আগে বুঝতে পারিনি। মানুষ জীবনে একবার ভুল করলে সেটা অপরাধ হয় না। আমি কোনও অপরাধী নই, কেবল ভুল পথে পা বাড়িয়েছিলাম।” সভায় দাঁড়িয়ে তিনি স্বীকার করে নেন যে, গত পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও এলাকার উন্নয়নের জন্য তিনি বিশেষ কিছু করতে পারেননি। আর সেই ব্যর্থতার দায়ভার কাঁধে নিয়েই সাধারণ মানুষের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন তিনি।

পরবর্তীতে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি জানান, প্রায় ৫৭ হাজার ভোটে জিতেও তিনি বাদুড়িয়ার মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারেননি। এর কারণ হিসেবে তিনি তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ ও দল পরিচালনার ধরনকেই দায়ী করেছেন। তাঁর দাবি, শাসক দলে থাকাকালীন তিনি কাজ করার স্বাধীনতা পাননি।

উল্লেখ্য, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ঘাসফুল শিবির ৭৪ জন বিদায়ী বিধায়ককে টিকিট না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যার মধ্যে আব্দুর রহিমের নামও ছিল। প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দিল্লিতে গিয়ে কংগ্রেসে যোগ দেন তিনি। তাঁর পরিবর্তে এবার বাদুড়িয়া থেকে ঘাসফুল শিবিরের টিকিট পেয়েছেন বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার সভাপতি বুরহানউল মুকাদ্দিন (লিটন)।

আব্দুর রহিমের এই ‘ক্ষমা প্রার্থনা’ ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে উঠেছে। বিষয়টিকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। দাবি, সভায় লোক হচ্ছে না দেখেই হতাশা থেকে উনি এসব কথা বলছেন। গত পাঁচ বছর উনি কোনও কাজ করেননি, আর এবার তাঁদের প্রার্থী লক্ষাধিক ভোটে জিতবেন জেনেই সাফাই গাইছেন।

Partha Goswami

24/04/2026

Vnn Times Today
Author: Vnn Times Today

सबसे ज्यादा पड़ गई