ডিভিসি (DVC)-র ভূমিকা নিয়েও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “২০ বছর ধরে ড্রেজিং করেনি ডিভিসি। মাইথন, পাঞ্চেত, ফারাক্কা, হলদিয়া—সব জায়গায় অবস্থা এক। বর্ষায় জল ছাড়বে, গ্রীষ্মে জল মিলবে না—এ কেমন নীতি?”
প্রকৃতি ধ্বংস করলে সে ফিরিয়ে দেয় তার ভয়ঙ্কর প্রতিশোধ, উত্তরাখণ্ড হোক কিংবা উত্তরবঙ্গ (North Bengal), বারবার প্রমাণিত হয়েছে সেই সত্যি। পাহাড়ে দুর্যোগ সামাল দিতে এবার প্রকৃতির হাত ধরেই প্রকৃতিকে রক্ষার ডাক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee)।
বুধবার দার্জিলিংয়ে প্রশাসনিক বৈঠকে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সাফ বার্তা, “কংক্রিটে আর কাজ হবে না। প্রকৃতি দিয়ে প্রকৃতিকে রক্ষা করতে হবে।” তাঁর পরামর্শ, পাহাড়ি নদীর পারে লাগাতে হবে ম্যানগ্রোভ আর ভেটিভার (Mangrove Vetiver Cultivation)। সুন্দরবনের অনুকরণে এবার পাহাড়েও গড়ে তোলা হবে প্রাকৃতিক বাঁধ।
মুখ্যমন্ত্রীর যুক্তি, “আপনারা যদি গঙ্গাসাগরে ৫ কোটি গাছ লাগাতে পারেন, তাহলে উত্তরবঙ্গের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতেও লাগানো যাবে না কেন? কংক্রিট ছয় মাসেই ভেঙে যায়। কিন্তু গাছ লাগালে তা অনেক বেশি টেকসই। জলে টাকা ঢেলে আর চলবে না। স্থায়ী সমাধান করতে হবে।”
কী এই ম্যানগ্রোভ আর ভেটিভার?
ম্যানগ্রোভ মূলত নোনা জলে বেড়ে ওঠা গাছ, যা উপকূলীয় এলাকাকে সুরক্ষা দেয় এবং বড় ধরনের ঝড় বা জলোচ্ছ্বাসেও বাঁধের মতো কাজ করে। ভেটিভার একধরনের গভীর শিকড়বিশিষ্ট ঘাস, যা মাটি ক্ষয়ের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলে। সাধারণত ম্যানগ্রোভ যেখানে বন তৈরি করে, ভেটিভার সেখানে সহায়ক উদ্ভিদ হিসেবে ভূমিকা নেয়।
তবে এই পরিকল্পনা নিয়ে প্রশাসনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে ধন্দ। কারণ, ম্যানগ্রোভ সাধারণত লবণাক্ত মাটিতে জন্মায়, পাহাড়ি ভূপ্রকৃতিতে তা আদৌ টিকবে কি না, তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।
শুধু পাহাড় নয়, জলনির্গমনের সঠিক ব্যবস্থাপনায় কেন্দ্রের ব্যর্থতার দিকেও আঙুল তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, ভুটান-সহ পড়শি রাজ্যগুলির অতিরিক্ত জলই বাংলার বন্যার মূল কারণ। প্রশ্ন তোলেন, “ভুটানের জল আমাদের ভাসিয়ে দেবে, আর ওরা ক্ষতিপূরণ দেবে না? হোয়াই উই সাফার এভরিটাইম?”
Partha Goswami
15/10/2025







