শাহ সরাসরি কারও নাম না করলেও তাঁর মন্তব্যের নিশানা যে তৃণমূল, তা স্পষ্ট। তিনি লিখেছেন, “অনুপ্রবেশ ঠেকানো দেশের নিরাপত্তা এবং গণতন্ত্র রক্ষার জন্য জরুরি।”
বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) কর্মসূচি নিয়ে রাজ্য-রাজনীতিতে চর্চা চলছেই। পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal SIR) মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) যেখানে এই প্রক্রিয়াকে আক্রমণ করে বলেছেন, “অগোছালো, জবরদস্তিমূলক ও বিপজ্জনক”, সেখানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) শুক্রবার পাল্টা অভিযোগ তুললেন। বললেন, “কিছু রাজনৈতিক দল অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষা করতে চাইছে।”
শাহ সরাসরি কারও নাম না করলেও তাঁর মন্তব্যের নিশানা যে তৃণমূল, তা স্পষ্ট। তিনি লিখেছেন, “অনুপ্রবেশ ঠেকানো দেশের নিরাপত্তা এবং গণতন্ত্র রক্ষার জন্য জরুরি। অথচ কিছু দল নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা পরিশোধনের কাজকে বাধা দিচ্ছে।”
এর ঠিক আগের দিনই মুখ্যমন্ত্রী তিন পাতার এক চিঠিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে জানান, SIR ইতিমধ্যেই “অত্যন্ত উদ্বেগজনক স্তরে” পৌঁছে গিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, প্রস্তুতির অভাব, প্রশিক্ষণে ফাঁক, নথিপত্র নিয়ে বিভ্রান্তি এবং মাঠপর্যায়ের কর্মীদের অকল্পনীয় চাপ, প্রক্রিয়াটিকে একেবারে ঠেকে দিয়েছে।
মমতার বক্তব্য, বহু বুথ লেভেল অফিসার (BLO), যাঁদের অনেকে শিক্ষক ও ফ্রন্টলাইন কর্মী, তাঁরা দিনের পর দিন বাড়তি দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে নাজেহাল। অনলাইন ফর্মে সার্ভার-ব্যর্থতা, তথ্য-মেলেনি, পুনরায় আপলোড, সব মিলিয়ে BLO-দের “মানবিক সীমার অনেক বাইরে” ঠেলে দেওয়া হয়েছে।
তিনি সতর্ক করেছেন, এই গতিতে ৪ ডিসেম্বরের মধ্যেই সঠিক ও নিখুঁত তথ্য আপলোড সম্ভব নয়। চাপে পড়ে ভুল তথ্য পাঠানোর ঝুঁকিও বাড়ছে, যার ফলে প্রকৃত ভোটার বঞ্চিত হতে পারেন।
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, এই ব্যর্থতা গোটা এসআইআর প্রক্রিয়াকে দুর্বল করে ফেলেছে এবং বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে এনে দাঁড়িয়েছে।
মমতা দাবি করেছেন, অবিলম্বে জবরদস্তি বন্ধ করতে হবে, প্রশিক্ষণ ও পরিকাঠামো বাড়াতে হবে, সময়সীমা ও পদ্ধতি পুনর্বিবেচনা করতে হবে। নইলে এর “অপ্রতিরোধ্য পরিণতি” পড়বে ভোটপ্রক্রিয়া ও প্রশাসনের উপর, এমনই সতর্কবাণী তাঁর।
Partha Goswami
21/11/2025







