১৯৭১-এর ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ভারত, হাসিনার সময়ে চালু মৈত্রী দিবসে নীরব ইউনুস

SHARE:

বলা হয় ওই দিনই বাংলাদেশের বিজয়ের সূচনা হয়ে গিয়েছিল। আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয় অর্থাৎ পাক সেনার সঙ্গে যুদ্ধে বিজয় এসেছিল আরো দশ দিন পর ১৬ ডিসেম্বর। ‌

ভারত ও বাংলাদেশের জন্য ৬ ডিসেম্বর দিনটি গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৭১ সালের এই দিনে ভারত সরকার প্রথম বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী সংসদে সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। বলা হয় ওই দিনই বাংলাদেশের বিজয়ের সূচনা হয়ে গিয়েছিল। আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয় অর্থাৎ পাক সেনার সঙ্গে যুদ্ধে বিজয় এসেছিল আরো দশ দিন পর ১৬ ডিসেম্বর। ‌

তবে বিগত কয়েক বছরের মতো এবার ৬ ডিসেম্বরে ভারত ও বাংলাদেশ সরকার দিনটি মৈত্রী দিবস হিসেবে পালন করছে না। শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এই দিনটি মৈত্রী দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। বিএনপি’র কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যান তারেক জিয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন কারণে অবশ্য এই দিনটিকে ঐতিহাসিক বলেছেন। ১৯৯০ এ স্বৈরশাসক হুসেন মোহাম্মদ এরশাদের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ পেয়েছিল এই দিনে। গণআন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেছিলেন এরশাদ। তারেক অবশ্য এই আন্দোলনের পুরো কৃতিত্ব দিয়েছেন তাঁর মা খালেদা জিয়াকে। ওই আন্দোলনে একসঙ্গে রাজপথে ছিলেন খালেদা এবং আওয়ামী লিগ নেত্রী শেখ হাসিনা।

২০২১-এ বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঢাকা গিয়েছিলেন। সেই সময় দুই প্রধানমন্ত্রীর যৌথ বিবৃতিতে ঘোষণা করা হয় ৬ ডিসেম্বর মৈত্রী দিবস হিসেবে পালন করবে দুই দেশ। ‌সেই থেকে দিনটি মৈত্রী দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছিল।

কিন্তু হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে ৬ ডিসেম্বর আলাদা করে উদযাপন করছে না বাংলাদেশ। ভারত সরকারও তাই কোন উৎসাহ দেখায়নি।‌ নয়াদিল্লির কর্তাদের বক্তব্য মৈত্রী দিবস পালনের প্রস্তাবটি এসেছিল বাংলাদেশের তরফে।

১৯৭১ এর ৪ ডিসেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে চিঠি লিখে বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র ঘোষণার আর্জি জানিয়েছিলেন। পরদিন পাঁচ ডিসেম্বরই শ্রীমতি গান্ধী বাংলাদেশি নেতাদের আরজি বিবেচনার আশ্বাস দেন। ‌ পরদিন সংসদে ঘোষণা করেন বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ভারত স্বীকৃতি দিল।

প্রসঙ্গত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসে ধারাবাহিকভাবে ভারতীয় সেনা লড়াইয়ে সম্পৃক্ত থাকলেও পাকিস্তানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ শুরু হয়েছিল তিন ডিসেম্বর। ‌ওইদিন বিকালে পাকিস্তান জম্মু-কাশ্মীর উত্তরপ্রদেশ পাঞ্জাব সহ উত্তর ভারতের বেশ কিছু এলাকায় ভারতীয় বিমান ঘাঁটিতে বোমা ফেলে।

প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী সেদিন ছিলেন কলকাতায়। ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে জনসভায় ভাষণ দেওয়ার সময় তাঁর কাছে পা হামলার খবর আসে।‌ তাঁর দ্রুত দিল্লি পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে গিয়ে যথেষ্ট ঝুঁকি নিতে হয়েছিল ভারতীয় বায়ু সেনাকে। পাকিস্তানের হামলা এড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে কিভাবে কলকাতা থেকে দিল্লি নিয়ে যাওয়া হবে, তাই নিয়ে চিন্তায় পড়েন সেনা কর্তারা।‌ তবে একটা সুবিধা ছিল, পূর্ব পাকিস্তান অর্থাৎ বর্তমান বাংলাদেশ থেকে হামলার তেমন একটা আশঙ্কা ছিল না এই প্রান্তে পাকিস্তান বিমান বাহিনী তেমন শক্তিশালী না থাকায়। ‌ প্রধানমন্ত্রীর বিমানকে দুটি যুদ্ধবিমান পাহারা দিয়ে দিল্লি পৌঁছে দেয়‌ সেদিন। ‌

Partha Goswami

06/12/2025

Vnn Times Today
Author: Vnn Times Today

सबसे ज्यादा पड़ गई