সিইও দফতরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ৯ লক্ষ ৩০ হাজার ৯৯৩ জন ভোটারের শুনানি সম্পন্ন হয়েছে এবং তাঁদের তথ্য অনলাইনে আপলোড করা হয়েছে।
রাজ্যের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (West Bengal SIR) হলে ভুয়ো ভোটার ধরা পড়বে – এই দাবি করে আসছিল বিরোধী দলগুলি। চলমান শুনানি পর্বের মধ্যেই নির্বাচন কমিশনের (ECI) প্রকাশিত তথ্য সেই দাবিকেই কিছুটা হলেও সমর্থন করছে। কমিশন সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত শুনানি শেষে রাজ্যে ১১ হাজারের বেশি ভোটারকে ‘অবৈধ’ (Illegal Voters) বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সিইও দফতরের (West Bengal CEO) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ৯ লক্ষ ৩০ হাজার ৯৯৩ জন ভোটারের শুনানি সম্পন্ন হয়েছে এবং তাঁদের তথ্য অনলাইনে আপলোড করা হয়েছে। এই শুনানি ও নথি যাচাইয়ের পর ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসাররা (ইআরও) ১১ হাজার ৪৭২ জন ভোটারকে ‘অবৈধ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে, এই ভোটারদের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাবে।
এসআইআর প্রক্রিয়ায় (SIR in West Bengal) এখনও পর্যন্ত মোট ৬৫ লক্ষ ৭৮ হাজার ৫৮টি নোটিস ‘জেনারেট’ করা হয়েছে। তার মধ্যে ৩২ লক্ষ ৪৯ হাজার ৯১টি নোটিস ইতিমধ্যেই জারি করা হয়েছে। এই নোটিস পাওয়া ভোটারদের মধ্যে ৯ লক্ষ ৩০ হাজার ৯৯৩ জনের শুনানি শেষ হয়েছে। সেই শুনানির ফলেই এই ১১ হাজারের বেশি ‘অবৈধ’ ভোটারের সন্ধান মিলেছে।
জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, সবচেয়ে বেশি ‘অবৈধ’ ভোটার ধরা পড়েছে নদিয়া জেলায় (Nadia)। সেখানে শুনানির পরে ৯ হাজার ২২৮ জন ভোটারকে অবৈধ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য ভাবে, কলকাতা দক্ষিণে (Kolkata South) ১ লক্ষ ৩৬ হাজার ৫৬১টি এবং বাঁকুড়ায় (Bankura) ১ লক্ষ ৬৩ হাজার ৩৫৭টি নোটিস ‘জেনারেট’ হয়েছিল। কিন্তু কলকাতা দক্ষিণ এবং বাঁকুড়ায় এখনও পর্যন্ত একজনও ‘অবৈধ’ ভোটার পাওয়া যায়নি।
অন্যান্য জেলার পরিসংখ্যান অনুযায়ী –
কোচবিহারে ১০ জন, জলপাইগুড়িতে ৪ জন, দার্জিলিঙে ২ জন, উত্তর দিনাজপুরে ২ জন এবং দক্ষিণ দিনাজপুরে ১৯৫ জন ভোটারকে অবৈধ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। মালদহে ১৫ জন, মুর্শিদাবাদে ৬৮ জন, উত্তর ২৪ পরগনায় ১৪৭ জন এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৬৯ জন ভোটারের নাম বাদ যাচ্ছে।
কলকাতা উত্তরে ৫৪ জন, হাওড়ায় ২৬ জন, হুগলিতে ৯৮৯ জন এবং পূর্ব মেদিনীপুরে ২ জন ‘অবৈধ’ ভোটার মিলেছে। পশ্চিম মেদিনীপুরে এই সংখ্যা ১০৫, পুরুলিয়ায় ৪৪, পূর্ব বর্ধমানে ১৬৭ এবং বীরভূমে ২৬৪। আলিপুরদুয়ারে ৯ জন, কালিম্পঙে ৬৫ জন, ঝাড়গ্রামে ৩ জন এবং পশ্চিম বর্ধমানে ৪ জন ভোটারকে অবৈধ হিসেবে চিহ্নিত করেছে কমিশন।
এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে যখন রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে, তখন কমিশনের এই পরিসংখ্যান নতুন করে বিতর্ক উস্কে দিল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। শাসকদল যেমন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, তেমনই বিরোধীরা দাবি করছে – এসআইআর-এর মাধ্যমেই ভুয়ো ভোটার চিহ্নিত করা সম্ভব। এখন নজর, চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশে এই সংখ্যায় আরও কতটা পরিবর্তন আসে, সেদিকেই।
Partha Goswami
14/01/2026







