লোকসভার আসন বেড়ে হচ্ছে ৮১৫! ২৭২টি পদ মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত, বড় ঘোষণা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর
সীমা পুনর্নির্ধারণ ঘিরে উত্তর-দক্ষিণ বিভাজনের আশঙ্কা উড়িয়ে দিল কেন্দ্র। লোকসভার আসন বাড়বে ৫০ শতাংশ, মোট সংখ্যা দাঁড়াবে ৮১৫, জানালেন কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল। একইসঙ্গে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, কোনও রাজ্য বা কোনও গোষ্ঠীরই ক্ষতি হবে না এতে।
বৃহস্পতিবার লোকসভায় সংবিধানের ১৩১তম সংশোধনী বিল ও সীমা পুনর্নির্ধারণ বিল, ২০২৬ পেশ করেন মেঘওয়াল। তিনি জানান, নতুন ব্যবস্থায় লোকসভার মোট ৮১৫টি আসনের মধ্যে ২৭২টি সংরক্ষিত থাকবে মহিলাদের জন্য, যা মোট আসনের এক-তৃতীয়াংশ। পাশাপাশি তফসিলি জাতি ও তফসিলি জনজাতিভুক্ত মহিলাদের জন্যও আলাদা সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে।
‘কাউকে বঞ্চিত করা হবে না’
আইনমন্ত্রীর কথায়, নারী সংরক্ষণ আইন কার্যকর হলে কোনও রাজ্যের আসন কমবে না। পুরুষদের ক্ষেত্রেও কোনও ক্ষতি হবে না। ২০২৩ সালে পাশ হওয়া নারী শক্তি বন্দন আইন অনুযায়ী, ২০২৬-পরবর্তী জনগণনা এবং সীমা পুনর্নির্ধারণের ভিত্তিতেই এই সংরক্ষণ কার্যকর হবে।
বিরোধীদের আপত্তি
তবে এই প্রস্তাব ঘিরে বিরোধীদের মধ্যে তীব্র আপত্তি দেখা দিয়েছে। কংগ্রেসের নেতৃত্বে বিরোধীরা অভিযোগ তুলেছে, এই সীমা পুনর্নির্ধারণের ফলে দক্ষিণের রাজ্যগুলি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং দেশের মধ্যে উত্তর-দক্ষিণ বিভাজন তৈরি হতে পারে। কংগ্রেস নেতা কে সি ভেনুগোপাল বলেন, ‘২০২৩ সালে আইন পাশের সময়ই এই পরিবর্তনগুলি অন্তর্ভুক্ত করা উচিত ছিল।’ সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব অভিযোগ করেন, সরকার তাড়াহুড়ো করে বিল আনছে, আগে জনগণনা হওয়া প্রয়োজন।
সরকারের পাল্টা জবাব
এই অভিযোগের জবাবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানান, ২০২৭ সালের জনগণনার কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। ধর্মের ভিত্তিতে সংরক্ষণ অসাংবিধানিক। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা হস্তক্ষেপ করেন, এরপর আলোচনা ফের স্বাভাবিক হয়।
সব মিলিয়ে, লোকসভার আসন বৃদ্ধি ও নারী সংরক্ষণ কার্যকর করার পথে বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র। তবে বিরোধীদের আশঙ্কা ও রাজনৈতিক তরজা এই বিষয়টিকে আগামী দিনে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
Partha Goswami
16/04/2026







