উদ্ধব-স্ট্যালিন-অখিলেশরা ফোন করছেন, তেজস্বী বাংলায় আসতে চাইছেন: জোটের মুখ মমতাই?

SHARE:

“সবাই বাংলায় আসতে চায়। কারণ তারা জানে এই লড়াইতে বিজেপি কত অত্যাচার করছে।”

বিধানসভা ভোটের মুখে জাতীয় রাজনীতির ভরকেন্দ্র হিসেবে ফের একবার নিজেকেই সামনে তুলে ধরলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বৃহস্পতিবার কোচবিহারের মাথাভাঙার সভা থেকে তৃণমূল নেত্রীর দাবি, মহারাষ্ট্র থেকে তামিলনাড়ু কিংবা উত্তরপ্রদেশ— বিজেপি বিরোধী শিবিরের প্রায় সব শীর্ষ নেতাই তাঁর সঙ্গে নিয়মিত ফোনে কথা বলছেন। মমতার কথায়, “আজ আমি খুশি। মহারাষ্ট্র থেকে উদ্ধব ঠাকরে ফোন করছেন, স্ট্যালিন কথা বলতে চাইছেন। অখিলেশ ফোন করছেন, তেজস্বীও বাংলায় আসতে চাইছেন।” রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মন্তব্যের মাধ্যমে ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের অন্দরে নিজের প্রাসঙ্গিকতা ও নেতৃত্বের দাবিকে আরও জোরালো করলেন তিনি।

তৃণমূল নেত্রীর দাবি, ভিনরাজ্যের এই বিজেপি বিরোধী নেতারা সবাই জানেন যে বাংলায় লড়াই করতে গিয়ে শাসকদলকে কতটা কেন্দ্রীয় ‘অত্যাচার’ সহ্য করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, “সবাই বাংলায় আসতে চায়। কারণ তারা জানে এই লড়াইতে বিজেপি কত অত্যাচার করছে।” ওয়াকিবহাল মহলের মতে নিজের লড়াইকে জাতীয় স্তরের লড়াইয়ের সঙ্গে একাত্ম করে দিয়ে মমতা আসলে বোঝাতে চাইলেন, বাংলাই বিজেপি-র বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রধান ক্ষেত্র।

জাতীয় নেতাদের সঙ্গে ফোনালাপের প্রসঙ্গ টানার পাশাপাশি এ দিন আক্রমণাত্মক মেজাজে পাওয়া গিয়েছে মমতাকে। ডিলিমিটেশন বা আসন পুনর্বিন্যাস বিল নিয়ে তাঁর হুঙ্কার, “মহিলা সংরক্ষণের ৩৩ শতাংশ বিল তো অনেক দিন পড়েছিল। এখন তার সঙ্গে ডিলিমিটেশন কেন? কারণ ডিলিমিটেশনের আড়ালে বাংলাকে খণ্ড খণ্ড করতে চায় বিজেপি। এটি আদতে এনআরসি করার একটি গোপন চক্রান্ত।” মমতার স্পষ্ট কথা, মহিলা বিল এবং ডিলিমিটেশন দু’টি আলাদা বিষয় হওয়া উচিত। ভোট কাটবার লক্ষ্যেই এই দুই বিষয়কে কেন্দ্র একসঙ্গে জুড়ে দিয়েছে।

বিজেপির ৩,০০০ টাকার প্রতিশ্রুতি সম্বলিত ‘মাতৃশক্তি ভরসা কার্ড’ বিলি নিয়ে এ দিনও সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেন মমতা। তাঁর পাল্টা চ্যালেঞ্জ, “আমরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার চালু করার সময় ভোটের জন্য অপেক্ষা করিনি। বিজেপি এখন ফর্ম পূরণ করিয়ে আপনাদের ব্যাঙ্ক ডিটেলস নিচ্ছে, ও সব দেবেন না। যা আছে তাও লুট করে নেবে।”

ভোটার তালিকায় (SIR) নাম বাদ যাওয়া নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মন্তব্যের পাল্টা দিয়ে মমতা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যাঁরা ভোটারদের তাড়িয়ে দেওয়ার কথা ভাবছেন, তাঁদেরই ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেব।” বিজেপিকে ‘জনবিচ্ছিন্ন’ বলে কটাক্ষ করে নেত্রী দাবি করেন, বুথে বসার মতো মানুষ নেই বলেই কেন্দ্রীয় এজেন্সির লোক দিয়ে কাজ করাচ্ছে গেরুয়া শিবির।

Partha Goswami

16/04/2026

Vnn Times Today
Author: Vnn Times Today