জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে ক্যানিং পূর্বের দেউলি ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় দলীয় কর্মীদের নিয়ে প্রচারে গিয়েছিলেন আরাবুল ইসলাম। অভিযোগ, সেই সময়ই অতর্কিতে একদল দুষ্কৃতী তাঁর কনভয় আটকে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে।
রাজ্য বিধানসভা ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) প্রথম দফার মুখে ফের রণক্ষেত্র দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং। মঙ্গলবার সকালে ক্যানিং পূর্ব বিধানসভা এলাকায় নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে ভয়াবহ হামলার মুখে পড়লেন আইএসএফ (ISF) নেতা আরাবুল ইসলাম (Arabul Islam)। অভিযোগের তির সরাসরি শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) আশ্রিত দুষ্কৃতীদের দিকে। হামলাকারীরা লাঠি, বাঁশ এমনকি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আরাবুলের গাড়িতে চড়াও হয় বলে দাবি করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভাঙড় ও ক্যানিং এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে ক্যানিং পূর্বের দেউলি ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় দলীয় কর্মীদের নিয়ে প্রচারে গিয়েছিলেন আরাবুল ইসলাম। অভিযোগ, সেই সময়ই অতর্কিতে একদল দুষ্কৃতী তাঁর কনভয় আটকে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। হাতে বাঁশ ও লাঠি নিয়ে একদল যুবক ও মহিলা আরাবুলের গাড়ির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। হামলায় গাড়ির জানলার কাচ ভেঙে চুরমার হয়ে যায়।
আরাবুলকে বাঁচাতে গিয়ে বেশ কয়েকজন আইএসএফ কর্মীও আক্রান্ত হন বলে অভিযোগ। তবে কর্মীদের তৎপরতায় বড়সড় বিপদের হাত থেকে রক্ষা পান আরাবুল এবং তাঁকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে আসা হয়। এই হামলার ঘটনার পরেই প্রতিবাদে ফেটে পড়েন আইএসএফ কর্মীরা। ঘটনার প্রতিবাদে বাসন্তী হাইওয়ের ঘটকপুকুর চৌমাথা অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন তাঁরা।
এই অবরোধস্থলে আরাবুল ইসলামের পাশাপাশি উপস্থিত হন তাঁর ছেলে হাকিমুল ইসলামও। অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিতে রাস্তা আটকে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান সমর্থকরা, যার জেরে ওই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
আক্রান্ত আরাবুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “ওরা ওখানে কাউকে ভোট করতে দেয় না। যারাই প্রার্থী হয় বা প্রচারে যায়, তাদের ওপরই হামলা চালায়। আগে এসব কথা বিশ্বাস করিনি, কিন্তু আজ আমার ওপরেই যখন হামলা হল, তখন হাতে-নাতে প্রমাণ পেলাম। আমাকে স্রেফ মেরে ফেলার চেষ্টা হয়েছে। হামলাকারীদের সবার হাতে মেশিন (আগ্নেয়াস্ত্র) ও তলোয়ার ছিল।”
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এটি আইএসএফ-এর অভ্যন্তরীণ বিবাদ অথবা সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ হতে পারে। এর সঙ্গে দলের কোনও যোগ নেই। তবে ঘটনার গুরুত্ব বুঝে এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ভোটের ঠিক দু’দিন আগে আরাবুলের ওপর এই হামলা ক্যানিং ও ভাঙড় চত্বরে নিরাপত্তার বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ ও ভাইরাল ভিডিও খতিয়ে দেখে হামলাকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
Partha Goswami
21/04/2026







