বিশেষ ট্রেনে পরিযায়ী ফেরানোয় ‘ঘুষ’-এর গন্ধ! বিজেপির ‘পতাকা-রাজনীতি’ নিয়ে কমিশনে তৃণমূল

SHARE:

গুজরাত থেকে পরিযায়ী শ্রমিকদের ফেরাতে ৭১টি বিশেষ ট্রেনের বন্দোবস্ত বিজেপির! একে ‘ঘুষ’ ও ‘বিধিভঙ্গ’ আখ্যা দিয়ে নির্বাচন কমিশনে কড়া নালিশ জানাল তৃণমূল কংগ্রেস।

২০২৬-এর বাংলার বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পারদ এখন তুঙ্গে। আর এই আবহে নতুন বিতর্কের জন্ম দিল ভিন রাজ্য থেকে পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেরার বিষয়টি।

গুজরাতের সুরত থেকে বিশেষ ট্রেনে শ্রমিকদের বিদায় জানানোর একটি ভিডিও সামনে আসতেই নির্বাচন কমিশনের দরজায় কড়া নেড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। ঘাসফুল শিবিরের অভিযোগ, সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে এবং ভোটারদের ‘ঘুষ’ দিয়ে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে ভারতীয় জনতা পার্টি।

কমিশনে ডেরেকের কড়া চিঠি

রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের কাছে এই মর্মে একটি দীর্ঘ অভিযোগপত্র পাঠিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন। অভিযোগের মূল তির বিজেপি-র কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্বের দিকে।

তৃণমূলের দাবি, সুরতের উধনা স্টেশন থেকে বিশেষ ট্রেনের বন্দোবস্ত করে পরিযায়ী শ্রমিকদের বাংলায় পাঠানো হচ্ছে। সেখানে গেরুয়া শিবিরের নেতাকর্মীদের দলীয় পতাকা উড়িয়ে শ্রমিকদের বিদায় জানাতে দেখা গিয়েছে। ডেরেক ও’ব্রায়েনের মতে, এটি স্রেফ কোনও সামাজিক কাজ নয়, বরং ভোটারদের প্রত্যক্ষভাবে প্রভাবিত করার একটি সুপরিকল্পিত কৌশল, যা আদর্শ নির্বাচনী আচরণবিধির চরম পরিপন্থী।

‘ঘুষ’ ও ‘অন্যায় প্রভাব’-এর অভিযোগ

তৃণমূলের চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, নিখরচায় ট্রেনের টিকিট, জল ও খাবারের ব্যবস্থা করা জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ১২৩(১) ধারা অনুযায়ী সরাসরি ‘ঘুষ’ দেওয়ার শামিল। একইসঙ্গে বিজেপির পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য তাঁদের উদ্বুদ্ধ করা ১২৩(২) ধারা অনুযায়ী ‘অন্যায় প্রভাব খাটানো’।

ডেরেক প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতীয় রেল কেন্দ্রীয় সরকারের অধীন হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল নিজের স্বার্থে ট্রেনের ব্যবস্থা করতে পারে? তাঁর মতে, এতে নির্বাচনের ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নষ্ট হচ্ছে এবং বিজেপি রাজনৈতিক প্রতিপত্তি খাটিয়ে অনৈতিক সুবিধা নিচ্ছে।

বিজেপির পাল্টা চাল ও ‘অনুরাগের ছোঁয়া’

অন্যদিকে, বিজেপি বিষয়টিকে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে দেখছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়েছেন, পেটের দায়ে বাইরে যাওয়া শ্রমিকরা বর্তমান রাজ্য সরকারের ওপর ক্ষুব্ধ। তাঁর দাবি, এই শ্রমিকরা এবার তৃণমূলকে ‘অনুরাগের ছোঁয়া’ বা যোগ্য জবাব দিতে ফিরছেন। বিজেপি সূত্রে খবর, বাংলার বিভিন্ন জেলায় শ্রমিকদের ফেরাতে মোট ৭১টি বিশেষ ট্রেনের পরিকল্পনা রয়েছে।

উধনা স্টেশনের ভাইরাল ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, ট্রেনের কামরায় উঠতে এতটাই হুড়োহুড়ি পড়ে যে পুলিশকে লাঠিচার্জ পর্যন্ত করতে হয়। শমীক ভট্টাচার্যের মতে, এই শ্রমিকরা নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে রাজ্যের পরিবর্তন আনতে চান বলেই ঘরে ফিরছেন।

পরিযায়ী ভোটব্যাঙ্ক ও রাজনৈতিক লড়াই

নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, উত্তরবঙ্গের মালদহ, দুই দিনাজপুর, কোচবিহার এবং দক্ষিণবঙ্গের মুর্শিদাবাদ ও বীরভূমের কয়েক লক্ষ শ্রমিক ভিন রাজ্যে কাজ করেন। এই বিরাট অংশের ভোট যেকোনো আসনের ফল পাল্টে দিতে পারে। তৃণমূল যেখানে ‘পরিযায়ী শ্রমিক বোর্ড’ গঠন এবং ভাতার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, সেখানে বিজেপি এই শ্রমিকদের ‘বহিরাগত ভোটার’ তকমার বদলে ‘প্রকৃত নাগরিক’ হিসেবে তুলে ধরে নিজেদের পক্ষে টানতে চাইছে। তৃণমূলের দাবি, বিজেপি শ্রমিকদের ছদ্মবেশে ভিন রাজ্যের ভোটারদের ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

তৃণমূলের আবেদন, বিজেপি-র এই ট্রেন যাত্রার যাবতীয় খরচ যেন তাদের নির্বাচনী ব্যয়ের অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং কমিশন যেন অবিলম্বে বিজেপি-কে শোকজ নোটিশ পাঠায়। এখন দেখার, ‘সামার স্পেশাল’ এই ট্রেন যাত্রার বিতর্ক নির্বাচন কমিশন কোন দিকে নিয়ে যায়।

Partha Goswami

22/04/2026

Vnn Times Today
Author: Vnn Times Today