প্রথম দফার ভোটের আগে এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বিশেষ নজরদারি ও অভিযান জারি থাকবে বলে পুলিশ সুপার জানিয়েছেন।
পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতনে তৃণমূল এবং বিজেপির (TMC BJP) সংঘর্ষের ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ করল পুলিশ (Police)। মঙ্গলবার দুই রাজনৈতিক দলের (West Bengal Assembly Election 2026) অশান্তির ঘটনায় মোট ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের মধ্যে বেশিরভাগই শাসকদল তৃণমূলের সমর্থক (TMC)। প্রথম দফার ভোটের আগে এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বিশেষ নজরদারি ও অভিযান জারি থাকবে বলে পুলিশ সুপার জানিয়েছেন।
ঠিক কী ঘটেছিল?
মঙ্গলবার দাঁতনের বিজেপি প্রার্থী অজিত জানার সমর্থনে বেলদা এলাকা থেকে একটি মিছিল বের হয়। অভিযোগ, সেই মিছিল বেলদা ছেড়ে মোহনপুর থানা এলাকায় ঢুকতেই তৃণমূলের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। বিজেপি শিবিরের দাবি, তাদের মিছিলে বিনা প্ররোচনায় হামলা চালানো হয়েছে। ভাঙচুর করা হয়েছে গাড়ি ও বাইক, মারধর করা হয়েছে প্রার্থী ও কর্মীদের। অন্যদিকে, তৃণমূলও পাল্টা হামলার অভিযোগ তুলেছে বিজেপির বিরুদ্ধে।
অনুমতি ও নিয়মভঙ্গ
এই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ বুধবার পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেফতার (Arrest) করেছে। ঘটনার খবর পাওয়ার পরই পুলিশ ২৩ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছিল। তবে অশান্তির নেপথ্যে মিছিলের অনুমতি না থাকার বিষয়টি বুধবার স্পষ্ট করে দিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার পরভিন সুলতানা।
পুলিশ সুপার জানান, মঙ্গলবার বেলদা এলাকায় সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মিছিলের অনুমতি ছিল। সেই অনুমতি ছিল মাত্র দু’টি গাড়ির জন্য। অথচ, বাস্তবের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। অনুমতি উপেক্ষা করে ছ’টি গাড়ি এবং ৮০-৮৫টি বাইক নিয়ে বেলদা থানা থেকে মোহনপুর থানা এলাকায় প্রবেশ করে ওই মিছিল। মোহনপুর এলাকায় প্রবেশের কোনও অনুমতিই ছিল না। আঁতলা গ্রামের মধ্য দিয়ে মিছিল যাওয়ার সময় দুই দলের সংঘর্ষ বাঁধে।
ক্ষয়ক্ষতির পরিসংখ্যান
এই সংঘর্ষের জেরে প্রায় ২৫ থেকে ৩০টি বাইক ভাঙচুর হয় এবং দু’টি বাইকে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। জখম অবস্থায় ৫৪ জনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ৩৬ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হলেও, ১৮ জনের আঘাত গুরুতর হওয়ায় তাঁদের অন্যত্র স্থানান্তর করতে হয়। তবে পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, বর্তমানে আহতরা সকলেই বিপন্মুক্ত।
পুলিশের কড়া বার্তা
অনুমতি না থাকায় এবং এলাকা বহির্ভূত জায়গায় মিছিলের জেরে সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশের ঘটনাস্থলে পৌঁছতে খানিকটা দেরি হলেও, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। সংশ্লিষ্ট এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। জেলা পুলিশ সুপার স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘‘যাঁরা আইন নিজের হাতে তুলে নিয়েছেন, তাঁদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না।’’ প্রথম দফার ভোটের আগে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সব রকম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
Partha Goswami
22/04/2026







