আদালতে কেন এই মামলা করা হয়েছে? নির্বাচন কমিশনের এই নির্দেশিকার জেরে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠবে বলে দাবি করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন আইনজীবী রত্নাঙ্কর দাস।
হাতে আর মাত্র কয়েকটা ঘণ্টা। তার পরেই প্রথম দফার মহাযুদ্ধ (West Bengal Assembly Election 2026)। কিন্তু ভোটের ঠিক মুখেই বাইক আরোহীদের জন্য দুঃসংবাদ শুনিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আইন-শৃঙ্খলার স্বার্থে ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকেই বাইক চলাচলের ওপর একগুচ্ছ বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। আর কমিশনের এই কড়াকড়ির বিরুদ্ধেই এবার মামলা রুজু হলো কলকাতা হাইকোর্টে (Kolkata high Court)।
আদালতে কেন এই মামলা করা হয়েছে? নির্বাচন কমিশনের এই নির্দেশিকার জেরে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠবে বলে দাবি করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন আইনজীবী রত্নাঙ্কর দাস। তাঁর যুক্তি, বর্তমানে বাইক বা স্কুটার কেবল শখের বাহন নয়, বহু মানুষের রুটিরুজি। প্রচুর মানুষ পেশাগত কারণে বা ব্যবসায়িক প্রয়োজনে দু’চাকার ওপর নির্ভরশীল। হঠাৎ করে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করায় কর্মক্ষেত্রে যাতায়াত এবং জরুরি পরিষেবায় বড়সড় বিঘ্ন ঘটছে।
আবেদনকারীর আরও দাবি, দুষ্কৃতীদের দৌরাত্ম্য রোখা কমিশনের লক্ষ্য হতে পারে, কিন্তু ঢালাওভাবে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের অধিকারে হস্তক্ষেপ করা যুক্তিসঙ্গত নয়।
বুধবার এই মামলার আবেদন শুনে মামলা দায়ের করার অনুমতি দিয়েছেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। আদালতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি যেহেতু জরুরি, তাই আগামীকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবারই এই মামলার শুনানি হবে।
কমিশনের নির্দেশিকা বলা হয়েছে, গত কয়েক বছরে ভোটের দিন অশান্তি ছড়ানোর ক্ষেত্রে মোটরবাইক বাহিনীর দাপট বারবার নজরে এসেছে। তাই এবার আটঘাঁট বেঁধে নামছে কমিশন। নিয়ম অনুযায়ী ভোট শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় বাইক চালানো নিষিদ্ধ।
এক একটি বাইকে একাধিক ব্যক্তির যাতায়াতে কড়া নজরদারি চালানো হবে। জরুরি পরিষেবা এবং ডেলিভারি বয়ের মতো কাজের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড়ের কথা থাকলেও, সাধারণ যাতায়াতে রয়েছে বিধিনিষেধ।
এখন দেখার, কাল শুনানির পর আদালত কমিশনের নির্দেশে কোনও কাটছাঁট করে কি না। সাধারণ মানুষের স্বস্তি মিলবে নাকি কড়াকড়িতেই অনড় থাকবে প্রশাসন, সেই দিকেই তাকিয়ে সব মহল।
Partha Goswami
22/04/2026







