বেলডাঙা মামলা থেকে সরল হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ, ইউএপিএ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধান বিচারপতি

SHARE:

বেলডাঙা কাণ্ডে ধৃত ৩৫ জনের মধ্যে ১৫ জনকে সম্প্রতি জামিন দিয়েছে এনআইএ-র বিশেষ আদালত। জামিন দেওয়ার ক্ষেত্রে নিম্ন আদালতের যুক্তি ছিল, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চার্জশিট দাখিল করতে ব্যর্থ হয়েছে।

মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় অশান্তির ঘটনায় (Beldanga Incident) ধৃত ১৫ জনের জামিন নিয়ে দানা বেঁধেছে আইনি জটিলতা। মঙ্গলবার এই মামলা থেকে অব্যাহতি নিল কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিচারপতি অপূর্ব সিংহ রায়ের ডিভিশন বেঞ্চ। মামলাটি এখন ফের প্রধান বিচারপতির কাছে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এই মামলায় ‘বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন’ বা ইউএপিএ (UAPA)-এর কড়া ধারা বজায় থাকবে কি না, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখন প্রধান বিচারপতির ওপরই নির্ভর করছে।

এদিন শুনানির শুরুতে বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই মামলায় ইউএপিএ-এর ১৫ নম্বর ধারা প্রয়োগ করা হবে কি না, তা স্থির করার এক্তিয়ার প্রধান বিচারপতির। যেহেতু এই আইনি ধারার প্রয়োগ নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ একটি বিশেষ বিচারবিভাগীয় প্রক্রিয়ার অংশ, তাই বর্তমান ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হওয়া সম্ভব নয়। এই পর্যবেক্ষণের পরই মামলাটি প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও এনআইএ-র চ্যালেঞ্জ

বেলডাঙা কাণ্ডে ধৃত ৩৫ জনের মধ্যে ১৫ জনকে সম্প্রতি জামিন দিয়েছে এনআইএ-র বিশেষ আদালত। জামিন দেওয়ার ক্ষেত্রে নিম্ন আদালতের যুক্তি ছিল, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চার্জশিট দাখিল করতে ব্যর্থ হয়েছে। নিম্ন আদালতের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয় এনআইএ। কেন্দ্রীয় সংস্থার প্রধান অভিযোগ ছিল, সুপ্রিম কোর্টের নির্দিষ্ট নির্দেশিকা সঠিক ভাবে পালন না করেই অভিযুক্তদের জামিন দেওয়া হয়েছে।

এনআইএ-র দাবি অনুযায়ী, তদন্ত চলাকালীন এই ধরনের গুরুতর অপরাধে অভিযুক্তদের জামিন দেওয়া তদন্তের স্বার্থের পরিপন্থী। এর আগে হাইকোর্ট এই মামলার অগ্রগতি নিয়ে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট পেশ করার নির্দেশ দিয়েছিল। সেই রিপোর্ট খতিয়ে দেখে উচ্চ আদালত স্থির করবে যে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ইউএপিএ-এর মতো কড়া ধারা লঘু করা হবে, নাকি তা বহাল থাকবে।

কেন এই অব্যাহতি গুরুত্বপূর্ণ?

আইনি মহলের মতে, ইউএপিএ ধারার প্রয়োগ নিয়ে বিচারপতি বন্দ্যোপাধ্যায়ের বেঞ্চের এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যদি প্রধান বিচারপতি মনে করেন যে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে জঙ্গি কার্যকলাপ বা দেশের সংহতি নষ্টের (ইউএপিএ-এর ১৫ নম্বর ধারা) পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ নেই, তবে তাঁদের জামিন বহাল থাকার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হবে। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সংস্থা এনআইএ চাইছে এই ধারা বজায় রেখে অভিযুক্তদের ফের জেল হেফাজতে নিতে।

ভোটের উত্তপ্ত পরিবেশে মুর্শিদাবাদের এই মামলার গতিপ্রকৃতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার। প্রধান বিচারপতি এই মামলার শুনানির জন্য নতুন কোন বেঞ্চ গঠন করেন বা নিজে শোনেন কি না, তার ওপরই নির্ভর করছে জামিন পাওয়া ১৫ জন অভিযুক্তের ভবিষ্যৎ। আপাতত নিম্ন আদালতের জামিনের নির্দেশের ওপর কোনও স্থগিতাদেশ না থাকলেও, উচ্চ আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর রাখছে রাজনৈতিক ও আইনি মহল।

Partha Goswami

21/04/2026

Vnn Times Today
Author: Vnn Times Today